Empress desk
;
Empress desk
Update : Saturday 28th March 2026, 03:36 pm
Online Edition
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ মানেই আনন্দ, প্রিয়জনের কাছে ফেরার উচ্ছ্বাস আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রা অনেকের জন্য পরিণত হয়েছে শোকের মিছিলে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা—প্রতিদিনই ঘটেছে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে গত ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২৪৯ জন। সে হিসেবে এবার মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
ঈদের ছুটিতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে। ২১ মার্চ দিবাগত রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাস পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান ২৬ জন।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে পুলিশের গবেষণায় দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই সবচেয়ে বড় কারণ—যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশ। ২০২৪ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে, যেখানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ যুক্ত ছিল।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময় সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছিল।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের দাবি, এবারের ঈদে কার্যকর কোনো সড়ক ব্যবস্থাপনা দেখা যায়নি। তার মতে, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যাই প্রমাণ করে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।
বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হন। তবে এই হিসাব মূলত গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর অনেক ঘটনাই এতে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার কারণগুলো বারবার চিহ্নিত হলেও সেগুলো মোকাবিলায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, সঠিক লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো রোধ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে প্রতি বছরই ঈদের আনন্দযাত্রা অনেকের জন্য বয়ে আনে দুঃখ আর বেদনার স্মৃতি।